

শনিবার ● ৫ এপ্রিল ২০২৫
প্রথম পাতা » শিক্ষা » পাঠ্যবইয়ে নিম্নমানের কাগজ আর নয়, বাধ্যতামূলক হচ্ছে জলছাপ
পাঠ্যবইয়ে নিম্নমানের কাগজ আর নয়, বাধ্যতামূলক হচ্ছে জলছাপ
বজ্রকণ্ঠ ডেস্ক::
পাঠ্যবই ছাপা ও বিতরণ ঘিরে বিতর্ক-সমালোচনার শেষ নেই। বইয়ে কতটা মানসম্মত গল্প-কবিতা, প্রবন্ধ রয়েছে; তার চেয়েও বেশি নজর থাকে কাগজ ও ছাপার মানের দিকে।
প্রতি বছরই শিক্ষার্থীদের হাতে নিম্নমানের কাগজের বই দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। অভিভাবক, শিক্ষক থেকে শুরু করে বিভিন্ন মহলের তীর্যক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডকে (এনসিটিবি)। সেই সমালোচনা এড়াতে এবার পাঠ্যবইয়ের কাগজে জলছাপ দেওয়া বাধ্যতামূলক করতে চায় প্রতিষ্ঠানটি। তাতে বইয়ের প্রতিটি পাতায় থাকবে এনসিটিবির লোগো সংবলিত জলছাপ। কাগজ হবে অফ হোয়াইট।
পাঠ্যপুস্তক বোর্ড সূত্র জানায়, ২০২৬ শিক্ষাবর্ষের বই ছাপার কার্যক্রম এপ্রিল-মে মাস থেকে শুরু করতে চায় এনসিটিবি। পাঠ্যবই ছাপা ঘিরে সংকট ও সমালোচনা এড়াতে দুই ডজন শর্তারোপ করতে যাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। তার মধ্যে জলছাপযুক্ত কাগজে বই ছাপা অন্যতম। এ নিয়ে ছাপাখানা ও কাগজের মিলমালিকসহ অংশীজনদের সঙ্গে একাধিক বৈঠকও করেছেন পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্মকর্তারা।
জলছাপযুক্ত কাগজে বই ছাপতে আগ্রহী অধিকাংশ ছাপাখানার মালিক। তবে কাগজের মিলমালিক ও কিছু ছাপাখানার মালিক এ উদ্যোগের বিরোধিতা শুরু করেছেন। পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের সভায় বসেই বিষয়টি নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। তবে যে কোনো উপায়ে জলছাপযুক্ত কাগজে পাঠ্যবই ছাপানোর উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চায় এনসিটিবি। প্রয়োজনে বিদেশ থেকে কাগজ আমদানি করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
একজন মিলমালিক তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বৈঠকে বলেন, ‘বই তো পড়বে এক বছর। তাতে এত ভালোমানের কাগজ দিতে হবে কেন? এক বছর ব্যবহার করেই তো বই শেষ। এত ভালো কাগজের দরকার নেই।’
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সরকার শতচেষ্টা করেও পাঠ্যবইয়ে নিম্নমানের কাগজের ব্যবহার ঠেকাতে পারছে না। পাঠ্যপুস্তক বোর্ড থেকে এ নিয়ে মুখে মুখে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। বেশি লাভের আশায় কিছু ছাপাখানা কৌশলে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপিয়ে তা শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করছেন কাগজের মিলমালিকরা।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিম্নমানের কাগজে ছাপা বইয়ের স্থায়িত্ব কম। দুই মাস না যেতেই বইয়ের পাতা ছিঁড়ে যাচ্ছে। অস্পষ্ট হয়ে যাচ্ছে ছাপা অক্ষরও। বাধাগ্রস্ত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা। পাশাপাশি অনুজ্জ্বল কাগজের অস্পষ্টভাবে ছাপা বই ব্যবহারে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যগত অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে।
চিকিৎসকদের তথ্যমতে, নিম্নমানের কাগজে বই ছাপা হলে শিশুদের চোখে সমস্যা দেখা দিতে পারে। আবার বইয়ের পাতা উল্টাতে অনেকেই আঙুলে মুখের লালা (থুতু) ব্যবহার করে। ফলে শিশুদের পেটে চলে যায় নিম্নমানের কাগজে ব্যবহার করা বিষাক্ত কেমিক্যালস, যা ভয়াবহ স্বাস্থ্যঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।
২০১০ সাল থেকে সরকার বছরের শুরুতে সারাদেশের সব শিক্ষার্থীকে বিনা মূল্যে পাঠ্যবই দিয়ে আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) প্রতি বছর এ কাজ বাস্তবায়ন করে। তবে শুরু থেকেই পাঠ্যপুস্তক বোর্ড ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেটের খপ্পরে নিম্নমানের কাগজে বই ছাপা হচ্ছে।
পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্মকর্তারা জানান, সরকারকে অনেকটা জিম্মি করে ছাপাখানা ও মিলমালিকরা এ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এনসিটিবি ঘিরে গড়ে ওঠা সিন্ডিকেট ভাঙার চেষ্টা চালাচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। সেই প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে বইয়ে ব্যবহার করা কাগজে এনসিটিবির লোগোর জলছাপ রাখার উদ্যোগ নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
এনসিটিবির পক্ষ থেকে মিলমালিকদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কাগজ ভালো নাকি খারাপ দেওয়া হবে, সেটা সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তারা নিয়ম মেনে কাজ করলে করবেন, না করলেও সমস্যা নেই। অথচ তারা সরকারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। এটা স্পষ্টই ধৃষ্টতা।’
ছাপাখানা মালিকরা আগ্রহী, মিলমালিকরা ঘোরবিরোধী
পাঠ্যবই ছাপার কাজে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতে ছাপাখানা মালিকদের জন্য ২৪টি শর্তারোপ করার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে এনসিটিবি। এর মধ্যে অন্যতম বইয়ে কাগজে জলছাপ যুক্ত করা। ফলে এ নিয়ে গত ১০ মার্চ কাগজ উৎপাদনকারী ২৫টি মিলসের মালিক ও তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক করেন পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের কর্মকর্তারা। সেখানে নতুন এ উদ্যোগের কথা বিস্তারিতভাবে জানানো হয়।
বৈঠক সূত্র জানায়, বিষয়টি নিয়ে তাৎক্ষণিক কঠোর প্রতিক্রিয়া জানান মিলমালিকরা। তাদের কেউ কেউ এনসিটিবি কর্মকর্তাদের সামনে বসেই আপত্তিকর মন্তব্যও করেন। একজন মিলমালিক তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বৈঠকে বলেন, ‘বই তো পড়বে এক বছর। তাতে এত ভালোমানের কাগজ দিতে হবে কেন? এক বছর ব্যবহার করেই তো বই শেষ। এত ভালো কাগজের দরকার নেই।’
বৈঠকে অংশ নেওয়া পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের দুজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, বৈঠকে ২৫টি পেপার মিলসের মালিক ও প্রতিনিধি অংশ নেন। তার মধ্যে বৈঠকে তাৎক্ষণিক এ উদ্যোগের বিরোধিতা করে বক্তব্য দেন চারটি কারখানার প্রতিনিধিরা। সেগুলো হলো—মাগুরা পেপার মিলস, মেঘনা পেপার মিলস, সোনালী পেপার মিলস ও আল-নূরস পেপার মিলস।
মিলমালিকদের আপত্তিকর বিভিন্ন বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান এনসিটিবি কর্মকর্তারাও। এতে বৈঠকে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বৈঠকে এনসিটিবির পক্ষ থেকে মিলমালিকদের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানানো একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘কাগজ ভালো নাকি খারাপ দেওয়া হবে, সেটা সরকার সিদ্ধান্ত নেবে। তারা নিয়ম মেনে কাজ করলে করবেন, না করলেও সমস্যা নেই। অথচ তারা সরকারের সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করেছেন। এটা স্পষ্টই ধৃষ্টতা।’
বিষয়টি নিয়ে বৈঠকে অংশ নেওয়া অন্তত ছয়টি পেপার মিলসের মালিক এবং কর্মকর্তাদের সঙ্গে জাগো নিউজের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়। তারা বিষয়টি নিয়ে এখনই গণমাধ্যমে কথা বলতে চান না। এটি এখনো প্রাথমিক আলোচনার পর্যায়ে। এ নিয়ে তারা বৈঠক করে সিদ্ধান্ত নেবেন বলে জানান।
নাম-পরিচয় প্রকাশ না করে একজন মিলমালিক জাগো নিউজকে বলেন, ‘পলিটিক্যাল গভর্নমেন্ট (রাজনৈতিক সরকার) থাকলে এত ঝামেলা হতো না। এখন যারা আসছেন, তারা বাস্তবতা বুঝেন না। খালি নিয়ম ফরমান; সকালে এক নিয়ম, বিকেলে আরেক নিয়ম। ব্যবসায়ীরা তো দুটো পয়সা লাভের তাগিদে ব্যবসা করেন। কিন্তু এনসিটিবির সঙ্গে কাজ করা এখন চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়েছে।’
এনসিটিবির জলছাপযুক্ত কাগজ দিতে দেশীয় মিলগুলোর সমস্যা কোথায় এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘সমস্যা বহু জায়গায়। এটা এখনই আমরা বলতে চাচ্ছি না। যদি এ নিয়ে সত্যিই এনসিটিবি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়, তখন আমরা অবস্থান জানাবো।’
‘জলছাপযুক্ত অফ হোয়াইট কাগজে পাঠ্যবই ছাপার উদ্যোগ যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি প্রেস মালিকরা সবাই একই কাগজে বই ছাপাবে। এটা ভালো উদ্যোগ বলে মনে করছি।’- বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি ওসমান গণি
এদিকে, মিলমালিকদের সঙ্গে বৈঠকের এক সপ্তাহ পর ছাপাখানা মালিকদের সঙ্গেও বিষয়টি নিয়ে বৈঠক করেন এনসিটিবি কর্মকর্তারা। সেখানে জলছাপ দেওয়া কাগজে পাঠ্যবই ছাপার উদ্যোগকে যুগান্তকারী বলছেন অনেক ছাপাখানা মালিক। অধিকাংশ ছাপাখানা কর্তৃপক্ষই এতে আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাদের ভাষ্য, জলছাপের ভালো কাগজ নিতে তাদের আপত্তি নেই। তবে কাগজের সরবরাহ নিশ্চিত করাটাই জরুরি।
চলতি শিক্ষাবর্ষে প্রায় তিন কোটি বই ছাপার কাজ করা একটি ছাপাখানার মালিক নাম প্রকাশ না করে জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিশ্বের অধিকাংশ দেশে সৃজনশীল বই ছাপা হয় অফ হোয়াইট কাগজে। আমাদের দেশেও সৃজনশীল বই অফ হোয়াইট কাগজে ছাপা হয়। এখন পাঠ্যবইও একই কাগজে ছাপার পক্ষে দীর্ঘদিন ধরে দাবি জানিয়ে আসছেন মুদ্রণকারীরা। কিন্তু সিন্ডিকেটের বাধায় তা বাস্তবায়ন হয় না। জলছাপযুক্ত একই কাগজে বই ছাপা হলে তা ইতিবাচক হবে বলে মনে করি।’
আগামী প্রকাশনীর কর্ণধার এবং বাংলাদেশ জ্ঞান ও সৃজনশীল প্রকাশক সমিতির সাবেক সভাপতি ওসমান গণি। তিনি বলেন, ‘জলছাপযুক্ত অফ হোয়াইট কাগজে পাঠ্যবই ছাপার উদ্যোগ যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এটি বাস্তবায়ন করতে পারলে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি প্রেস মালিকরা সবাই একই কাগজে বই ছাপাবেন। এটা ভালো উদ্যোগ বলে মনে করছি।’
‘এনসিটিবি ঘিরে কালো একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এখানে ভালো কাজ করতে গেলেও আপনাকে এ চক্রের ছোবল খেতেই হবে। ভালো মানের বই, ভালো কাগজ ও ছাপার বই দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করাটা দুরূহ হয়ে পড়ে।’- এনসিটিবি সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসান
৩৪-৩৬ কোটি বই ছাপার টার্গেট, কাগজ প্রয়োজন লাখ টন
গত বছর আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর নতুন শিক্ষাক্রম বাতিল ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। এরপর ২০১২ সালে প্রণীত (সৃজনশীল) শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। সেজন্য বেড়ে যায় বইয়ের সংখ্যাও।
২০২৫ শিক্ষাবর্ষের জন্য ৪০ কোটি ১৬ লাখের কিছু বেশি বই ছাপা হয়েছে। তার আগের শিক্ষাবর্ষে অর্থাৎ ২০২৪ সালের জন্য বই ছাপা হয়েছিল ৩০ কোটি ৭০ লাখ। ফলে এবার প্রায় সাড়ে ৯ কোটি বই বেশি ছাপা হয়েছে। এতে বেড়েছে খরচও। চলতি বছরের বই ছাপতে ব্যয় ধরা হয়েছে এক হাজার ৭৫০ কোটি টাকা, যা আগের বছর (২০২৪) ছিল এক হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
এদিকে, চলতি শিক্ষাবর্ষে বই ছাপা পুরোদমে শুরুর পর তীব্র কাগজ সংকট দেখা দেয়। এতে মুদ্রণকারী বা ছাপাখানা মালিকরা চরম বিপাকে পড়েন। একপর্যায়ে সরকারের পক্ষ থেকে চীন থেকে কাগজ ও আর্টকাট আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেই কাগজ ও আর্টকাট এনে ছাপাখানা মালিকদের সরবরাহ করে সরকার।
তবে আগামী বছরের বই ছাপাতে কাগজের এমন সংকট যাতে না হয়, সেজন্য আগেভাগে প্রস্তুতি নিচ্ছে এনসিটিবি। তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী—২০২৬ শিক্ষাবর্ষে ৩৪ থেকে ৩৬ কোটি বই ছাপার প্রয়োজন হতে পারে। এসব বই ছাপাতে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ মেট্রিক টন কাগজ প্রয়োজন হতে পারে। এর সিংহভাগ কাগজ দেশীয় প্রতিষ্ঠান থেকে জলছাপযুক্ত করে নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
এনসিটিবি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এ কে এম রিয়াজুল হাসানের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের মেয়াদকাল শেষ হয়েছে গত ২৫ মার্চ। এর আগের দিন তিনি জাগো নিউজকে বলেন, ‘এনসিটিবি ঘিরে কালো একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এখানে ভালো কাজ করতে গেলেও আপনাকে এ চক্রের ছোবল খেতেই হবে। ভালো মানের বই, ভালো কাগজ ও ছাপার বই দেওয়ার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করাটা দুরূহ হয়ে পড়ে।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টের পর আমরা যারা দায়িত্ব পালন করেছি, করছি; তারা শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে ভালো মানের কাগজ ও উজ্জ্বল কাগজে বই ছাপার ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছি। আগামী বছরের জন্য আগেভাগে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেগুলো নিয়ে ছাপাখানার মালিক, মিলমালিকদের সঙ্গে আমরা বসেছিলাম। মতপার্থক্য কিছু রয়েছে। তবে এটা বাস্তবায়ন হওয়াটা জরুরি। আমার মেয়াদকাল শেষ, যদি আমি না থাকি; তাহলেও আশা করি যিনি আসবেন; যারা থাকবেন, তারা যেন এ পদক্ষেপগুলো এগিয়ে নেন। তাহলে শিক্ষার্থীরা নিঃসন্দেহে ভালো বই পাবে। একটা ঐতিহাসিক কাজ হবে।’
বিষয়টি নিয়ে জানতে শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক চৌধুরী রফিকুল (সি আর) আবরারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়ের বলেন, ‘বিষয়টি আমি অবগত। এবার বই ছাপাটা দারুণ চ্যালেঞ্জিং ছিল। তারপরও অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এবার ভালো বই পেয়েছে শিক্ষার্থীরা। আগামী বছর থেকে আরও ভালো বই দেওয়ার সব ইতিবাচক সিদ্ধান্ত সরকার বাস্তবায়ন করবে। কেউ বাধা হয়ে দাঁড়ালে তাদের রেখেই আমরা কাজ এগিয়ে নেবো।’
বিষয়: #আর #কাগজ #জলছাপ #নিম্নমানের #নয় #পাঠ্যবইয়ে #বাধ্যতামূলক #হচ্ছে
